ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল ও ঘাঁটি-নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
২০২২ সালে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবুর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘাঁটি ‘এলএসএ জেনকিন্স’ স্থাপন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের নিকটবর্তী ঘাঁটিগুলোতে হামলা বাড়ায় এই ঘাঁটির কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে আব্বাস দাহুক জানান, কৌশলগত নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরানের কাছাকাছি নয়, বরং কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই এই ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতা বেড়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী ও বড় আকারের মার্কিন ঘাঁটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাবেক সিআইএ পরিচালক ও সেনা কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউসও বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ঘাঁটিতে আগের মতো অবস্থান বজায় রাখার আগ্রহ কমছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে একটি সামরিক শেলটার ধ্বংস এবং একটি টার্মিনালে ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে, ইরান বলছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এই ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।